বন্যা পরিস্থিতি গাজলে: জলের তলায় বিঘার পর বিঘা জমি

বং শিলিগুড়ি টাইমস : বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়ায় গাজল গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা ঘর বাড়ি হারানোর মুখে। জলের তলায় ইতিমধ্যেই চলে গেছে বিঘার পর বিঘা জমি। করোনাতে মানুষের অবস্থা একেই নাজেহাল। তারপর বন্যা। মানুষদের কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষ ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। টাঙ্গন, মহানন্দা, শ্রীমতি, মরা টাঙ্গন এইসব নদীর জল ক্রমাগত বাড়ছে।

চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্বদিক দিয়ে বয়ে গেছে টাঙ্গন নদী এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে মরা টাঙ্গন। যার ফলে এই এলাকাটি অনেকটা দ্বীপের মত। ওই এলাকার প্রধান জানিয়েছেন, বসতবাড়ি গুলোতে জল না ঢুকলেও অনেক চাষের জমি এখন জলের তলায়। দিনকয়েক আগে টাঙ্গন নদীর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকতে শুরু করে এলাকায়। পঞ্চায়েত থেকে বালির বস্তা এবং শালবল্লা দিয়ে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। বৈরডাঙ্গী ,হবিনগর, ডোবা খোকসন, গঙ্গারামপুর, বিলকাঞ্চন এলাকার কয়েকটি গ্রাম ডুবে গেছে। চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানত পাটের জমি গুলো।

আংশিক ভাবে প্লাবিত হয়েছে আহিল, হাট নগর, বারদাঙ্গা এবং অনন্তপুর এলাকা। চাকনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইমাম নগর, পলাডাঙ্গা, জামডাঙ্গা, সূর্যনগর, শান্তি নগর, মহিশাল, বিধান নগর, নয়াপাড়াতেও জল ঢুকেছে। আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। শ্রীমতি নদীর জলে প্লাবিত এই এলাকার ইটবান্ধা, সুরমনি, কিসমত সুলতানপুর, শ্রীকৃষ্ণপুর।

অনেক সময় ভাদ্র আশ্বিন মাসেও বন্যা হয় এইসব এলাকাতে। এবার পাটের চাষে চরম ক্ষতি হয়েছে। চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। তবে আশার কথা কয়েকদিনে কয়েক ইঞ্চি জল কমেছে। নেপাল ভুটান এবং তরাই দুয়ার্স অঞ্চলে বৃষ্টি বন্ধ থাকলে নদীর জলস্তর অনেকটাই কমে যাবে। এমনটাই আশা স্থানীয়দের। আপাতত গাজলের সাথে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। রাস্তা ডুবে যাওয়ার কারণে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here